সিসিমপুর

সিসিমপুর, সিসেমি ওয়ার্কশপ বাংলাদেশ-এর একটি কার্যক্রম, যা টেলিভিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিশুদের শিক্ষাগ্রহণকে আনন্দদায়ক ও উপভোগ্য করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছে। শিশুতোষ এই কার্যক্রমটি ৩ থেকে ৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের বিকাশ, জীবন-দক্ষতার উন্নয়ন, মৌলিক শিক্ষার চাহিদা পূরণের জন্য তৈরি হয়েছে, যেখানে শিশুদের পাশাপাশি তাদের পিতা-মাতা, যত্নকারী এবং শিক্ষকেরাও অন্তর্ভূক্ত আছেন। সিসিমপুর কার্যক্রমটি শিশু ও অভিভাবকদের কাছে ভাষা ও বর্ণ; পঠন দক্ষতা; গণিত; স্বাস্থ্য; পরিবেশ; জেন্ডার-সমতা; পুষ্টিকর খাবার ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস চর্চা; ভূমিকম্প; পানি ও রাস্তা পারাপার সংক্রান্ত নিরাপত্তা; শিশুদের ইনজুরি প্রতিরোধ; সামাজিক আচার আচরণ ও মূল্যবোধ; দেশীয় শিল্প-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ইত্যাদি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরতে সচেষ্ট থাকে। শিশুবিকাশ বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিশুশিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ, লেখক, অডিও-ভিজুয়াল পরিচালক, পাপেটিয়ার, সংগীত পরিচালক, অ্যানিমেটর, প্রামাণ্যচিত্র পরিচালক, প্রযোজক প্রমুখের সমন্বয়ে নির্মিত হচ্ছে জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি। ২০০৪ সালে ইউএসএআইডি বাংলাদেশ-এর অর্থায়নে এর পথচলা শুরু।
টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণের পাশাপাশি সিসিমপুর স্কুল ও কমিউনিটিতে ৩ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুদের জন্য আকর্ষণীয় উপকরণ তৈরি, বিতরণ, প্রশিক্ষণ ও শ্রেণিকক্ষে বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা প্রদান করে থাকে, যা শিশুর মৌলিক শিক্ষা, নানাবিধ জীবনমুখী দক্ষতা অর্জনে ভূমিকা রেখে চলেছে। এছাড়াও সিসিমপুর প্রতিনিয়ত নানাধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রচারণা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানটি প্রচারের বর্তমানে দশম বর্ষ চলছে। শুরু থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হচ্ছে শিশুদের প্রিয় সিসিমপুর। এছাড়াও প্রচারিত হয়েছে বিভিন্ন স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলে। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস ট্রাস্ট পরিচালিত এক জরিপে সিসিমুপর শিশুতোষ অনুষ্ঠান হিসেবে শীর্ষস্থানীয় এবং সামগ্রিকভাবে তৃতীয় জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। ২০০৭ সালে পরিচালিত এসিপিআর-এর একটি র্দীঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু সিসিমপুর অনুষ্ঠানটি নিয়মিত দেখে তারা-তাদের চাইতে এক বছরের বড় শিশু, যারা সিসিমপুর দেখে না- তাদের চেয়ে ভাষা ও বর্ণ, গণিত এবং সামাজিক-সাংস্কৃতি বিষয়ে বেশি দক্ষতা প্রদর্শন করেছে। বর্তমানে সিসিমপুর প্রচারিত হচ্ছে আরটিভি ও বিটিভি’তে।

সিসেমি ওয়ার্কশপ

“সিসেমি ওয়ার্কশপ” একটি অলাভজনক শিক্ষামূলক সংগঠন যা ১৫০ টিরও বেশি দেশে প্রায় ১৫৬ মিলিয়ন শিশুর জন্য কাজ করছে যার পিছনে কাজ করছে “সিসেমি স্ট্রীট” নামের একটি সংগঠন। সিসেমি ওয়ার্কশপ-এর লক্ষ্য হল টেলিভিশনকে শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে শিশুদেরকে তার সর্বোচ্চ সম্ভাবনায় পৌঁছুতে সাহায্য করা। টেলিভিশনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও সংস্থাটি অন্যান্য মাধ্যম যেমন- বই, ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিশুদেরকে আরো বুদ্ধিদীপ্ত, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ও শক্তিশালী এবং দয়ালু হিসেবে শিশুদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করছে। গবেষণা নির্ভর প্রতিষ্ঠানটি প্রতিটি দেশের জনগোষ্ঠীর চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে টেলিভিশন অনুষ্ঠান প্রস্তুত ও প্রচার করে থাকে।

আর্থিক সহযোগিতায়
metlife